কখন গুলি করে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক: বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: সম্প্রতি বাংলাদেশে কয়েক দফায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। দেখা গেছে, প্রত্যেকটি ঘটনাই পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। জীবনও দিতে হয়েছে কোনো কোনো পুলিশ অফিসারকে।

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে পরপর কয়েকটি বড় হামলার পর গত কয়েক মাস ধরে জার্মানিতে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে দেশটিতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে সরকার। এমতাবস্থায় জার্মান পুলিশের ভূমিকা কতটুকু হতে পারে, কিংবা কোন পরিস্থিতিতে একটি দেশের পুলিশ গুলি ছুড়ে তা নিয়েও চলছে নানা মহলে চুলছেড়া বিশ্লেষণ।

এ অবস্থায় পুলিশের বাড়তি উদ্যোগ থাকা খুবই স্বাভাবিক। জার্মান পুলিশ সেই উদ্যোগের আওতায় কয়েক জায়গায় রেইড দিয়েছে, সন্দেহভাজন জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের ধরেও নিয়ে গেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি ক্ষেত্রে সন্দেহভাজনরা যখন বড় এক হামলার পরিকল্পনা করছিল, তখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। লক্ষ্যনীয় হচ্ছে, এ সব রেইডে কিন্তু কেউ প্রাণ হারায়নি।

তবে কোথাও সন্ত্রাসী হামলা চলাকালে জার্মান পুলিশের ভূমিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। গত ১৮ জুলাই বাভেরিয়ার ভ্যুয়র্ত্সবুর্গে ট্রেনের মধ্যে এক জঙ্গি কুড়াল দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে কমপক্ষে ৫ জনকে আহত করে। তখন পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। এর কিছুদিন আগে, গত ২৩ জুন, একটি সিনেমা হলে ‘বন্দুক' নিয়ে ঢুকে মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পুলিশ তাকেও গুলি করে মেরে ফেলে৷

তাহলে দেখা যাচ্ছে, জার্মানিতে পুলিশের রেইডে সন্দেহভাজনরা মারা যায় না। অন্তত নিকট অতীতে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। এখন কেউ কেউ বলতে পারেন, সাম্প্রতিক পুলিশ রেইডগুলোতে সন্দেহভাজন কেউ মারা না যাওয়ার কারণ তারা পুলিশকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেনি বা সুযোগ পায়নি। এক্ষেত্রে ব্রাসেলসের উদাহরণ টানা যেতে পারে। গত বছরের নভেম্বর মাসে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান কমপক্ষে ১৩০ জন। কয়েকজন বন্দুকধারী রাতের আধারে তাণ্ডব চালিয়ে তাদের হত্যা করে। সেই হামলার মূল সন্দেহভাজন সালাহ আব্দেসালামকে ১৮ মার্চ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে জীবিত গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ, যদিও গুলি বিনিময়ের পর। পরপর কয়েকবার ব্রাসেলসের বিভিন্ন স্থানে রেইড দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছিল।

মোদ্দাকথা হচ্ছে, ইউরোপের, বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে পুলিশের কাছে শেষ অস্ত্র হচ্ছে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়া। আর এটা করার ঘটনা বিরল।

তবে কোনোভাবেই বলছি না যে, বাংলাদেশ পুলিশের উচিত নিজেদের জীবনের বিনিময়ে সন্দেহভাজনদের জীবিত আটক করা। পুলিশ নিতান্ত প্রয়োজন মনে করলে গুলি ছুঁড়বে। তবে মনে রাখতে হবে, তারা প্রশিক্ষিত। কোন পরিস্থিতিতে, কোথায়, কীভাবে, কেন গুলি করতে হবে, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে, সেটা জানে বলেই তো তারা পুলিশ। আর তারা পুলিশ বলেই জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতার, জবাবদিহিতার ব্যাপার আছে।

কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ পুলিশের রেইডে সন্দেহভাজন জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং বিরোধী দলের কর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনা এত বেশি যে এখন পুলিশের হাতে নিহতের কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটা নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয় সাধারণ মানুষের মনে। সেসব ঘটনার পুলিশি বর্ণনা, আর গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং নিহতদের পরিবারবর্গের বক্তব্যের মধ্যে বিস্তর ফাঁরাক খুঁজে পাওয়া যায়। ফলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সহজেই সন্দেহভাজনদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ তালিকায় ফেলে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি শুধু বাংলাদেশেই ঘটছে?
 
প্রতিদিন সকালে ডয়চে ভেলের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগে দিনের কার্যসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে একদিন ঢাকা পুলিশের কল্যাণপুর অভিযান নিয়ে যখন কথা হয়, তখন তিন বিদেশি সাংবাদিক কয়েকটি উদাহরণ টেনে বলেছিলেন, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ক্ষেত্রে অনেক মিল। তাদের হাতে সন্দেহভাজন নিহতের ঘটনা অহরহ ঘটে। এটা কি এজন্য যে, পুলিশ মনে করে সন্দেহভাজনদের জীবিত ধরা হলে তারা আইনের ফাঁক থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবারো বড় অপরাধে জড়াতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য পুলিশ কখনো সরাসরি দেয় না। তাদের অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করাও সাংবাদিকতার নীতিবিরুদ্ধ। আবার আদালতে অভিযুক্ত জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা সবাই যে আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যায়, সেটা বলাও কঠিন।

বাংলাদেশের দুই শীর্ষ জঙ্গি সিদ্দিকুর রহমান ওরফে ‘বাংলা ভাই’ ও শায়খ আব্দুর রহমানকে কিন্তু ২০০৬ সালে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে জীবিত উদ্ধারে সক্ষম হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। পরবর্তীতে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিও হয়েছিল।

     
 
2017-09-18-14-10-42বাবুগঞ্জ (বরিশাল),বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা, মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা অথচ তাদের গর্ভধারিণী মা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে তিনি এতোটাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন যে দিনের এক বেলা ভাতও জুটছে না তার ভাগ্যে। বলছি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের (৭০)  জীবন সংগ্রামের কথা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইয়ুব আলী কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও নানা অভাব অনাটনের সংসারে ৬ সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই...বিস্তারিত
2017-09-01-08-32-29নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: কর্মসংস্থানের অভাবে শহরমুখী হচ্ছে বানভাসি মানুষ। রাজধানীসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন তারা। ঈদের আগে যে সময়টাতে রাজধানী ফাঁকা হতে থাকে। সেই সময়ে এখন অভাবী মানুষের দলে দলে আগমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারী-পুরুষ, শিশু এবং কিছু মানুষকে সপরিবারে ঢাকায় আসতে দেখা যাচ্ছে। তারা রিকশা চালনা থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মের কাজের সন্ধানে এসেছেন বলে জানান।রংপুর কাউনিয়া থেকে ১১ দিন আগে ঢাকায় আসা আয়নাল মিয়া বলেন, ‘ত্রাণের চাউল কয়দিন খামো বাহে, হামাক কাম করা নাগবার নয়। শহরত...বিস্তারিত
2017-08-27-07-31-33নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: থামেনি, প্রশাসনে উল্টো বেড়েছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। অন্যদিকে অনেকে যোগ্য হওয়ার পরও পাচ্ছেন না পদোন্নতি। প্রশাসনে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতির পরও নিচের পদে কাজ করতে হচ্ছে।চলতি মাসেই শুধু সচিব পর্যায়ে দুজন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এভাবে সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তারা অবসরের পরও চাকরিতে ফিরছেন। এতে প্রশাসনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৫৯ বছর। আর মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০...বিস্তারিত
2017-07-07-06-33-12নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: রাজশাহী মহানগরসহ উপজেলাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ছয় মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৭৬ জন। গত বছর বছরের প্রথম ছয় মাসে যার সংখ্যা ছিল ১৫০ জন। রাজশাহীর গোলি থেকে রাজপথে থামানো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাণহানিকর ঘটনাগুলো। প্রতি দিন জেলার কোথাও না কোথাও ঘটে যাচ্ছে ছোটবড় সড়ক দুর্ঘটনা। যার কারণে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পঙ্গুত্ববরণ করছেন বহু মানুষ। এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যে...বিস্তারিত
2017-06-19-22-25-49নিউজ ডেস্ক, বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : পাগল বলে সাধারণ মানুষ তাদের এড়িয়ে চলে। আসলে তারা পাগল নয়। পাগল সেজে এরা সামাল দেয় মাদকের ব্যবসা। এই পাগল নিয়মিত মেকআপও নেয়। নিয়ম করে নোংরা থাকার কৌশল শেখে। তারা রাজধানীর রাস্তায় বিভিন্ন পয়েন্টে বসে থেকে মাদকের খুচরা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। জানিয়ে দেয় পুলিশের অবস্থান। সারাদিন এদের দেখা না মিললেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এদের উপস্থিতি থাকে ফুটপাতজুড়ে। মহাখালী থেকে ফেনসিডিল আর গাঁজা আসবে শ্যামলী। মহাখালী ব্রিজের নিচে একজন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...বিস্তারিত
এই পাতার আরো খবর -