সারাদেশে পলিথিনের দৌরাত্ম্য থামাবে কে?

বিশেষ প্রতিবেদন, বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থামানো যাচ্ছে না এর লাগাম। দিন দিন বেড়েই চলছে পলিথিন ব্যাগের অবাধ ব্যবহার। এমন এলাকা পাওয়া দুষ্কর, যেখানে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নেই।

ক্ষতিকারক এ পণ্যটি নিষেধাজ্ঞার ১৬ বছর পার হয়ে গেলেও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও আনা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ এ পণ্যটির কড়াল গ্রাস থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছেন দেশের একজন সাধারণ নাগরিক।

পলিথিন ব্যবহার বন্ধে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট গত ১২ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন। একমাসের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হলেও দুই মাস পার হতে চলেছে কিন্তু কোনো জবাব পায়নি উচ্চ আদালত। এভাবে প্রজ্ঞাপনটির বিষয়ে সরকারের ধারাবাহিক অনীহা ও অবহেলার মাঝেই পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সরেজমিনে রাজধানীর শান্তিনগর, রামপুরা, কারওয়ানবাজারসহ বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মাছ, মাংসসহ সব দোকানেই নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ আছে। মুদির দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল, ফুটপাতের হকার, কাঁচা বাজার, ভোগ্যপণ্য বাজার-সর্বত্র আইন অমান্য করে পলিথিনের ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকাশ্যে ব্যবহার চলে আসলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। অথচ, ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা ও ১ মার্চ সারাদেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সরকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত) ২০০২ অনুযায়ী, এই আইন অমান্য করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সামছুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আইনজীবী এইচএম জিয়া উদ্দিন জনস্বার্থে হাইকোর্টে এক রিট আবেদন করেন। আদালতে আবেদনটির প্রাথমিক শুনানি শেষে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধকরণে ২০০২ সালের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের কার্যকারীতাকে চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করে আদালত। একইসঙ্গে রুলের জবাব দিতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র সচিব, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজিপি ও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়। রুলের জবাব দিতে বিবাদীদের চার সপ্তাহ সময় দেয়া হলেও কোনো জবাব পায়নি আদালত। এ বিষয়ে

রিটকারী আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জানান, ‘আদালত বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহ (১ মাস) সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের নির্ধারিত সময়ের পরে সে জবাব এখনও দেয়া হয়নি। তবে খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত মামলাটি আদালতে শুনানির জন্য তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

ব্যাপকভাবে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদফতরের তৎকালীন মহাপরিচালক মনোয়ার ইসলাম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সারাদেশে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বেড়ে গেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সকল পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, মজুদ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন ও ব্যবহার সরকার নিষিদ্ধ করেছে।

আইন লঙ্ঘনকারীকে এক বছর কারাদণ্ড ও অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনার অনুরোধও করা হয়। ব্যবসায়ীরা জানায়, পলিথিন এখন সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্রেতারা এখন দোকানে দোকানে এসে পলিথিন বিক্রি করে।

নানা সাইজের পলিথিন পাওয়া যায়। তাছাড়া ক্রেতারা চটের ব্যাগের চেয়ে পলিথিন ব্যাগ নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। একটি চটের ব্যাগের মূল্য ২০-৩০ টাকা। ক্রেতারা চটের ব্যাগের বদলে বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগে পণ্য নিতে চায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে পলিথিন ব্যাগ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু কারখানায় পলিথিন তৈরি হচ্ছে। বিদেশ থেকে প্লাস্টিকের দানা ও পাউডার এনে কারখানাগুলোতে বিভিন্ন আকারের পলিথিন ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। উৎপাদন শেষে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে আইনে ১০০ মাইক্রোনের কম পুরুত্বের পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দ্রব্য, ওষুধ, সিমেন্ট, সারশিল্পসহ ১৪টি পণ্যে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্লাস্টিক দানা আমদানির অনুমোদন রয়েছে। সেই সুযোগে বৈধতার আড়ালে অবৈধ পলিথিন ব্যাগ তৈরি হচ্ছে বলেও জানা যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল মতিন বলেন, ‘সরকারকে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের জবাব দেয়া উচিৎ ছিলো। পলিথিনের ব্যবহার বাদ দিতে ২০০২ সালে সরকার প্রথম প্রস্তুতি নিয়েছিলো। তখন বিজিএমসি’কে চটে ব্যাগ তৈরী করতে বলা হয়েছিলো।

কিন্তু কিছু অজ্ঞাত কারণে সেই ব্যাগ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলো। চটের ব্যাগ ব্যবহারে বাধ্য করা হলে একদিকে পাটের সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষা পেত পলিথিনের বিনষ্ট থেকে। চটের ব্যাগ তুলনামূলক সস্তা।

পলিথিনের ব্যাগ দোকানদাররা ফ্রি দিলেও তার টাকা পণ্য মূল্যের সঙ্গে কেঁটে রাখেন।’ আগামীর কৃষি, মাটি ও মানুষ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার রোধ এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা।

     
 
2017-09-18-14-10-42বাবুগঞ্জ (বরিশাল),বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা, মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা অথচ তাদের গর্ভধারিণী মা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে তিনি এতোটাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন যে দিনের এক বেলা ভাতও জুটছে না তার ভাগ্যে। বলছি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের (৭০)  জীবন সংগ্রামের কথা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইয়ুব আলী কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও নানা অভাব অনাটনের সংসারে ৬ সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই...বিস্তারিত
2017-09-01-08-32-29নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: কর্মসংস্থানের অভাবে শহরমুখী হচ্ছে বানভাসি মানুষ। রাজধানীসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন তারা। ঈদের আগে যে সময়টাতে রাজধানী ফাঁকা হতে থাকে। সেই সময়ে এখন অভাবী মানুষের দলে দলে আগমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারী-পুরুষ, শিশু এবং কিছু মানুষকে সপরিবারে ঢাকায় আসতে দেখা যাচ্ছে। তারা রিকশা চালনা থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মের কাজের সন্ধানে এসেছেন বলে জানান।রংপুর কাউনিয়া থেকে ১১ দিন আগে ঢাকায় আসা আয়নাল মিয়া বলেন, ‘ত্রাণের চাউল কয়দিন খামো বাহে, হামাক কাম করা নাগবার নয়। শহরত...বিস্তারিত
2017-08-27-07-31-33নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: থামেনি, প্রশাসনে উল্টো বেড়েছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। অন্যদিকে অনেকে যোগ্য হওয়ার পরও পাচ্ছেন না পদোন্নতি। প্রশাসনে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতির পরও নিচের পদে কাজ করতে হচ্ছে।চলতি মাসেই শুধু সচিব পর্যায়ে দুজন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এভাবে সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তারা অবসরের পরও চাকরিতে ফিরছেন। এতে প্রশাসনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৫৯ বছর। আর মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০...বিস্তারিত
2017-07-07-06-33-12নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: রাজশাহী মহানগরসহ উপজেলাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ছয় মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৭৬ জন। গত বছর বছরের প্রথম ছয় মাসে যার সংখ্যা ছিল ১৫০ জন। রাজশাহীর গোলি থেকে রাজপথে থামানো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাণহানিকর ঘটনাগুলো। প্রতি দিন জেলার কোথাও না কোথাও ঘটে যাচ্ছে ছোটবড় সড়ক দুর্ঘটনা। যার কারণে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পঙ্গুত্ববরণ করছেন বহু মানুষ। এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যে...বিস্তারিত
2017-06-19-22-25-49নিউজ ডেস্ক, বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : পাগল বলে সাধারণ মানুষ তাদের এড়িয়ে চলে। আসলে তারা পাগল নয়। পাগল সেজে এরা সামাল দেয় মাদকের ব্যবসা। এই পাগল নিয়মিত মেকআপও নেয়। নিয়ম করে নোংরা থাকার কৌশল শেখে। তারা রাজধানীর রাস্তায় বিভিন্ন পয়েন্টে বসে থেকে মাদকের খুচরা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। জানিয়ে দেয় পুলিশের অবস্থান। সারাদিন এদের দেখা না মিললেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এদের উপস্থিতি থাকে ফুটপাতজুড়ে। মহাখালী থেকে ফেনসিডিল আর গাঁজা আসবে শ্যামলী। মহাখালী ব্রিজের নিচে একজন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...বিস্তারিত
এই পাতার আরো খবর -